আমেরিকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রিভারওয়াকে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এলো, উন্মুক্ত করল কর্তৃপক্ষ টানা চতুর্থবার ‘বর্ষসেরা সংবাদপত্র’ নির্বাচিত হলো ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’ ১০ বছরে ২০ হাজার মানুষ হারানো মিশিগান অঞ্চল এখন ঘুরে দাঁড়াতে চায় অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া ২ রাষ্ট্রদূতের চুক্তি বাতিল করল সরকার স্টার্লিং হাইটসে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি, দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আত্মরক্ষায় গুলি : ডেট্রয়েটের  ট্রিপল শুটিংয়ে অভিযোগ  আনছে না প্রসিকিউটররা টর্নেডো-বন্যায় নাজেহাল মিশিগান, সহায়তা পেতে তথ্য দাখিলের তাগিদ নির্মাণ জোনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডেট্রয়েটে প্রাণহানি ও আহত ডেট্রয়েটের পশ্চিমে গুলিতে নিহত ৩, সন্দেহভাজন আটক গ্যাসের পর বিদ্যুতেও দামের ঝাঁকুনি, জনজীবনে প্রভাবের শঙ্কা মিশিগানজুড়ে একই সঙ্গে বন্যা ও শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি মিশিগানে ইউএসবি’র বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব ২৬ এপ্রিল ডেটিং সঙ্গীদের ওপর হামলায় ডেট্রয়েটের এক ব্যক্তি অভিযুক্ত সমকামী-ইহুদিদের টার্গেট করে হামলার ছক, মিশিগানে যুবকের জেল হ্যামট্র্যাম্যাকে কিশোরী অপহরণে ডেট্রয়েটের ব্যক্তি অভিযুক্ত মেট্রো ডেট্রয়েটে ঝড় ও বন্যার শঙ্কা ডেট্রয়েটে কিশোর ইস্যু ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হ্যামট্রাম্যাকে কিশোরী অপহরণ : সন্দেহভাজনকে আদালতে সোপর্দ আজ রাতের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড অ্যান আরবার : জরুরি সেবায় ব্যস্ত পুলিশ-দমকল পশ্চিম মিশিগানে দুই টর্নেডোর তাণ্ডব : ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
শিল্প-বিমুখতা ও কর্মসংকটে সাগিনাও বে অঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাস

১০ বছরে ২০ হাজার মানুষ হারানো মিশিগান অঞ্চল এখন ঘুরে দাঁড়াতে চায়

  • আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন
১০ বছরে ২০ হাজার মানুষ হারানো মিশিগান অঞ্চল এখন ঘুরে দাঁড়াতে চায়
সাগিনাও, ২৪ এপ্রিল : মিশিগানের সাগিনাও বে-সংলগ্ন আটটি কাউন্টিতে গত কয়েক বছর ধরে জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।
মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই অঞ্চল থেকে আনুমানিক ২০ হাজার মানুষ কমে গেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ-তরুণী রয়েছেন—যাদের উপস্থিতিতে সাগিনাও ও বে সিটির মতো শহরগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করেছিলেন স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় কর্মকর্তারা ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-কে জানিয়েছেন, জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা ঠেকাতে হলে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই হবে প্রধান উপায়।
বে কাউন্টির নির্বাহী জিম বার্সিয়া বলেন, “আমি মনে করি, আমরা পরিস্থিতি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছি।” তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান হিসেবে ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে মিশিগানের পঞ্চম নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
জনসংখ্যা হ্রাসের চ্যালেঞ্জ স্বীকার করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বার্সিয়া বলেন, “সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, যেখানে ভালো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থাকবে এবং যা দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে গড়ে উঠবে। মানুষ যেন ২০ থেকে ৩০ বছর কাজ করে নিশ্চিন্তে অবসরের পরিকল্পনা করতে পারে—এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”

কোন কাউন্টিগুলো সবচেয়ে বেশি মানুষ হারিয়েছে?
২০১৪ সালে সাগিনাও কাউন্টির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ। এক দশক পর, এই কাউন্টি ৯ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা—অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ—হারিয়েছে।
ইসাবেলা কাউন্টিতে জনসংখ্যা হ্রাস তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ৬ হাজার। তবে এই সংখ্যা কাউন্টিটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশের সমান। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন প্রায় ৬৪ হাজার ৫০০ মানুষ।
এই অঞ্চলের আটটি কাউন্টির মধ্যে তিনটি কাউন্টি ওই দশ বছরে সামান্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে কোনো ক্ষেত্রেই এই বৃদ্ধি ৫০০ জনের বেশি হয়নি।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক মার্ক স্কিডমোর, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে গবেষণা করেছেন, জানিয়েছেন—‘গ্রেট লেকস বে রিজিয়ন’-এ জনসংখ্যা কমে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা মিশিগানের আরও অনেক অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্রেরই প্রতিফলন।
স্কিডমোরের মতে, এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ বিশ্বায়নজনিত পরিবর্তন। বিশেষ করে মিশিগান থেকে বিপুল পরিমাণ উৎপাদন শিল্প ধীরে ধীরে দেশের বাইরে—মেক্সিকো, এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে—স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে গেছেন। স্কিডমোর বলেন, এলাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের একটি বড় অংশই ছিলেন তুলনামূলকভাবে উচ্চ আয়ের; কারণ তাদেরই ছিল স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামাজিক সক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, “যখন এসব মানুষ এলাকা ত্যাগ করেন, তখন যাদের স্থানান্তরের সক্ষমতা কম—বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষ—তাদের সেখানেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।”
বর্তমানে ‘বে রিজিয়ন’-এর মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৬০ হাজার ডলার, যা মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গড় আয়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মিশিগানের সামগ্রিক মধ্যম পারিবারিক আয় ছিল ৭২ হাজার ৮৭৫ ডলার।
গত কয়েক দশক ধরে চলমান এই প্রবণতার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আবাসন গড়ে উঠেছে এবং কর-আদায়ের ভিত্তি (ট্যাক্স বেস) ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। এর প্রভাবে সড়ক নির্মাণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত খাতে ব্যয় করার জন্য সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমে গেছে।
মার্ক স্কিডমোর ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই সময়ে মিশিগানের অর্ধেকেরও বেশি কমিউনিটির জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
তার মতে, জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘শিল্প-বিমুখীকরণ’ এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় ধরে মিশিগানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল উৎপাদন খাত ও মোটরগাড়ি শিল্প; কিন্তু শিল্প-বিমুখীকরণের প্রভাবে এই খাতগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংকোচন এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখছে
স্কিডমোর জানান, এই অঞ্চলের প্রধান দুটি বিশ্ববিদ্যালয়—সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি এবং সাগিনো ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে—শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমে যাওয়াও সামগ্রিক জনসংখ্যা হ্রাসের পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
‘মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিস’-এর প্রকাশিত বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের শরৎকাল থেকে ২০২৪ সালের শরৎকাল পর্যন্ত এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে ১৫ হাজার ৫৬০ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি কমেছে।
স্কিডমোর বলেন, “আমার ধারণা, এই অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়াটা সামগ্রিক জনসংখ্যা হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।”
আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাগিনো কাউন্টিতে—যেখানে সাগিনো ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি অবস্থিত—মোট জনসংখ্যা হ্রাসের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অংশই ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, ইসাবেলা কাউন্টিতে—যেখানে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি অবস্থিত—জনসংখ্যা হ্রাসের ৬২ শতাংশই এই বয়সসীমার মানুষের মধ্যে ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের এই অঞ্চলে থেকে যাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে স্থানীয় অনেক মেধাবী স্নাতক উচ্চ বেতনের চাকরির সন্ধানে ডেট্রয়েট, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস কিংবা শিকাগোর মতো বড় শহরে চলে যান।
স্কিডমোর আরও বলেন, মিডওয়েস্ট অঞ্চলের অনেক ছোট শহরেই এই সমস্যা দেখা যায়। মাউন্ট প্লেজেন্ট বা বে সিটির মতো জনপদগুলো শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ করলেও, বড় শহরের তুলনায় সেখানে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়ে গেছে।
সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি (সিএমইউ)-এর ক্যারিয়ার উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এরিকা ও’টুল জানান, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের সামনে মধ্য-মিশিগানের নিয়োগকর্তাদের তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্নাতকদের এই অঞ্চলেই ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
ও’টুল বলেন, “শিক্ষার্থীরা সবার আগে যে বিষয়টি খোঁজে, তা হলো চাকরির সুযোগ-সুবিধা। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাছে এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরে যে, ‘বে রিজিয়ন’-এ জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যান্য এলাকার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি বলেন, “আমাদের ক্যারিয়ার মেলাগুলোতে মিশিগানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়োগদাতারা অংশ নেন। ডেট্রয়েটভিত্তিক অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও আমাদের সঙ্গে কাজ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা বিস্তৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে।”

কর্মকর্তাদের মনোযোগ বিনিয়োগ ও জীবনযাত্রার মানের ওপর

বার্সিয়া জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বে কাউন্টি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ‘কনজিউমার্স এনার্জি’র মতো কোম্পানির বড় শিল্প প্রকল্পও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চ মাসে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এই অঞ্চলে একটি প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
বার্সিয়ার মতে, গত দুই বছরে কাউন্টিতে প্রায় ৯০০টি নতুন পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ‘অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং’ বা উন্নত উৎপাদন খাতে এই প্রবৃদ্ধি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক মাইক্রোচিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসকে সিলট্রন’-এর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে স্থানীয় কর্মীরা ঘণ্টায় ৫০ ডলার বা তারও বেশি আয় করতে সক্ষম।
তবে তিনি স্বীকার করেন, কাউন্টিতে মজুরি কাঠামোর উন্নয়নের এখনও সুযোগ রয়েছে। মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সমাপ্ত পাঁচ বছরের সময়কাল থেকে ২০২৪ সালে সমাপ্ত পাঁচ বছরের সময়কাল পর্যন্ত বে কাউন্টির পূর্ণকালীন কর্মীদের বার্ষিক মধ্যম আয়ে যে প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে তা কার্যত ম্লান হয়ে গেছে।
বার্সিয়া বলেন, “ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তবে বর্তমানে আমরা করের ভিত্তি (ট্যাক্স বেস) শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
বে কাউন্টির অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘বে ফিউচার’ প্রণীত একটি বিনিয়োগ রূপরেখা (প্রস্পেক্টাস) অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে কাউন্টির লক্ষ্য হলো ৫০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন মূলধনী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ৬০০টি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
‘বে ফিউচার’-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বার্সিয়া ‘দ্য নিউজ’-কে জানান, তিনি আশা করছেন—উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ স্থানীয় তরুণদের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস অঞ্চল বা ডেট্রয়েটের উপকণ্ঠে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।
এদিকে, সাগিন কাউন্টির অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সাগিন ফিউচার’এর সভাপতি টম মিলারও বার্সিয়ার এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
একটি ইমেইলে টম মিলার লেখেন, “এই অঞ্চল এবং সমগ্র অঙ্গরাজ্যজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা একটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার—এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। একই সঙ্গে আমরা উপলব্ধি করি, এটি একটি বহুমাত্রিক বিষয়, যা নানা উপাদানের দ্বারা প্রভাবিত হয়।”
তিনি আরও লেখেন, “আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে শক্তিশালী কর্মসংস্থানের সুযোগ এই বৃহত্তর আলোচনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জীবনযাত্রার মান-সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ও উচ্চ বেতনের চাকরি একটি অঞ্চলের বর্তমান বাসিন্দাদের ধরে রাখতে এবং সময়ের সঙ্গে নতুন মেধাবী কর্মীদের আকর্ষণ করতে সহায়তা করে।”
এদিকে, বার্সিয়া সাগিনাও বে-এর প্রাকৃতিক সম্পদ, কাউন্টিতে সম্প্রতি সংস্কার করা একটি পাবলিক সুইমিং পুল, বিভিন্ন কাউন্টি পার্ক এবং ‘বে কাউন্টি সিভিক অ্যারেনা’—যেখানে নিয়মিত হকি খেলা অনুষ্ঠিত হয়—এসবের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো মিশিগানের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এসব সুযোগ-সুবিধার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
বার্সিয়া জানান, তিনি চান দর্শনার্থীরা যেন সরাসরি এসে “বে কাউন্টিতে বিদ্যমান কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিনোদনের ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার তুলনামূলক কম ব্যয়, এবং নিম্ন কর ও অপরাধের হার” সম্পর্কে জানতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো সেইসব মানুষের কাছে পৌঁছানো, যারা “বে সিটি ও বে কাউন্টির নাম জানেন ঠিকই, কিন্তু ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়ক থেকে কখনো নেমে এসে এই অঞ্চলের সম্ভাবনা ও সুযোগগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লিভোনিয়ায় আই-৯৬ -এ সম্ভাব্য গোলাগুলি, তদন্তে রাজ্য পুলিশ

লিভোনিয়ায় আই-৯৬ -এ সম্ভাব্য গোলাগুলি, তদন্তে রাজ্য পুলিশ